আর না

[

    ছাদে বসে বসে মেয়েটির হিসেব করছিলাম। যাকে একটু আগে পাশের বাড়ি থেকে তার শশুড় শাশুড়ি এবং স্বামী মিলে বেড় করে দিলো। 

হিসেবটা এরকম। চার বছর আগেই এই মেয়ে তার পরিচিত, খুব আপন জন, তারুণ্য এবং স্বাধীনতাকে জলাঞ্জলি দিয়ে এই বাড়িতে এসে ছিলো,এক মহা ধুমধামের মাধ্যমে। ক’দিন পর মেয়ের স্বামীর জন্য উপঢৌকন হিসেবে এক ট্রাক আসবাবপত্র সহ টিভি, ফ্রিজ এবং মটর সাইকেল চলে এলো বাড়িতে। এসব “কন্যা বিদায়ের” কারবার হয়েছে বহুদিন হলো।

     ইদানিং ঐ দম্পতির মধ্যে ঝগড়া শুনতে পেতাম। মেয়েটার সন্তান হচ্ছে না, এটাই ঝগড়ার বিষয়বস্তু। অথচ তাঁরা পরীক্ষা করেও দেখেনি যে সমস্যাটা আসলে কার! আর সমস্যা যারই হোক, এই সন্তান না হবার কারনে কোন দাম্পত্য জীবনেরও সমাপ্তি হতে পারে না। বোধহয় যথেষ্ট মারপিটও হতো মেয়েটির সাথে। এসব যখন আমার বিবেকে লাগতো, তখন মাঝে মধ্যে আগে ফোনে অথবা সরাসরি গিয়ে বাধা দিতে চেষ্টা করতাম। এবং প্রতিবারই " আমাদের পারিবারিক ব্যপারে নাক গলাতে আসবেন না " কথাটা আমাকে শুনতে হতো। কখনো কখনো আমার দুর্বলতাও ঐ পরিবার তুলে ধরে সাবধান করে দিতঃ " নিজে তো সংসার করতে পারেননি, এখন অন্যের সংসারে নাক গলাতে এসেছেন কেন? " কথাটা অন্যরকম লাগলেও মিথ্যে নয়।

    ইদানিং আর যাই না। শুধু দেখি, শুনি এবং ভিতরে ভিতরে প্রচণ্ড কষ্ট পাই। আজও যেমন দেখছি এবং কষ্ট পাচ্ছি। মেয়েটার বাবা ছলছল চোখে মেয়ে কে ফেরত নিয়ে যাচ্ছে। ওরা একটা ভাড়া করা গাড়িতে উঠে চলে গেলো। কিন্তু কথাও দেখতে পেলাম না মেয়েটা প্রথম আসার সময় যেগুলো এনেছিলো সেই টিভি, ফ্রিজ এবং সোনাদানা সহ মেয়েটির সাথে সেগুলোও ফেরত নিয়ে যাবার কোন চিহ্ন।

 এবার বোধহয় আমাকে ছাদ থেকে নামতেই হবে। কারণ মেয়েটা তার প্রাপ্য পায়নি। না ন্যায় বিচার, না তার সাথে নিয়ে আসা বাবা মা এর কষ্টার্জিত কোন সম্পদ। এভাবে যেতে দেওয়া এবং সহ্য করা ঠিক হবেনা। আমি সংসার করতে পারিনি বলে, চোখের সামনে এভাবে কোন সংসার আমি ভাঙতে দিতে পারি না। অথবা কাউকে তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হতে দেখে চুপ করে থাকতে পারিনা। এটা আমার একেবারেই নীতি বিরুদ্ধ।

    সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতে নামতে ভাবছিঃ 

” এবার কোন অপবাদটা আমার জন্য অপেক্ষা করছে….?”
যাই বলুক না কেন, আমি মেয়েটির ন্যায্য হিসেবটি করে দিতে চাই। এজন্য যদি আদলতের কাঠগড়ায় আমাকেও দাঁড়াতে হয়, তো আমি নিজেকে ধন্য মনে করবো। কিন্তু এর একটা বিহিত করেই ছাড়ব। মেয়েটিকে যথেষ্ট সহ্য এবং অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে। আর না…….।

           - রিটন মোস্তাফা
                 জয়পুরহাট

রুগ্ন সময়

সূর্য উঠেছিল ঠিকই,
দাপুটে আকাশ ভরা মেঘ,আলো ছড়াতে দেয়নি তাকে
গুম গুম হুঙ্কারীত শব্দে প্রকৃতি প্রকম্পিত ছিলো তখন।
প্রসব যন্ত্রণার লম্বা পথ ধরে ভূমিষ্ঠ হলো যে সন্তান
আলো দেখতে পায়নি সে,জন্ম হলো তার অন্ধকারে।

সে জন্মেছিল ঠিকই,
অথচ তাকে বেড়ে উঠতে হয়েছে এই অন্ধকারে
কালো মেঘের বিভৎস চিৎকারে সে আতঙ্কিত যদিও।
অপরিচিত কিছু কলো মুখ,তাকে স্বাগত জানালো
মায়ের স্বপ্ন কেড়ে,তাকে তুলে দেওয়া হলো অনিয়মে।

বেঁচে থাকলো সে ঠিকই,
অসার,অনুভূতি শূন্য এক ভোঁতা পরিস্থিতির ভূ-পৃষ্ঠে
আলো দেখেনি সে,আলো পায়নি,আলো চেনে না সে
সে জানে শুধু অন্ধকার পৃথিবীতে কীভাবে টিকতে হয়
কীভাবে অমানুষ হতে হয়,অসুস্থ প্রকৃতির রুগ্ন সময়ে।

  • রিটন মোস্তাফা

থমবে কবে

এটা কোন পথ বেছে নিলে তুমি
তোমোর কোন সে মহতী উদ্যোগে?
এতো এতো লাশের টুকরো মাংশে
বলো হে নির্বোধ,কি অর্জন খুঁজছো?

কি তুমি জ্বালাবে,মঙ্গালোক এসবে
ছোট বড় এইসব,টুকরো মাংশ স্তুপে।
আমেরিকা থেকে শ্রীলঙ্কা ও সিরিয়া
কি চাষ করতে চাও,এই বাংলাদেশে?

ধর্মের নামে অধর্মের তোলায় হাতে
এতো সহস্র লাশ দিয়ে,চাও কি করতে?
কি এমন মহান উদ্দেশ তোমার ঘাতক
দেখি,কোন সে কল্যাণের এজেন্ডা হাতে?

বিশ্ব জুড়ে কাপুরুষোচিত গুপ্ত আঘাতে
লক্ষ্য লক্ষ্য সাধারণ মানুষের মৃত স্তুপে।
কোন সে ধর্মের পতাকা উড়াতে চাও তুমি
জবাব দাও নরঘাতকেরা,বলো থামবে কবে?

           - রিটন মোস্তাফা

অস্তিত্বহীনের খোঁজে

আমার জীবনের ছোট বড় ভুল গুলো মেনে
লম্বা ছোট দীর্ঘশ্বাস অতিক্রম করতে করতে
এগিয়ে চলেছি এক অনিবার্য অদেখা ভবিষ্যতে।

এখানে অভিযোগ নেই,নেই কোন তাড়াহুড়ো
শোধু হেঁটে যাওয়া ঐ অনিশ্চিত সময়ের পথে
বেঁচে থাকার বেঁধে ফেলা অমোঘ কিছু নিয়মে।

এখানে নীরবতা আছে,আছে ভীষণ একাকীত্ব
জড়িয়ে আছে অস্তিত্ব জুড়ে আমার যত বাসনা
আছে অস্তিত্বহীন ভুলেতে না পারা অন্য অস্তিত্ব।

এখানে একাই থাকি বিষাদের শূন্যতা গ্রাস করে
চলতে থাকি,চলতে চলতে খুঁজতে থাকি সমাপ্তি
খুঁজি,তোমার আমার সে ভালোবাসার আসল সত্য।

               - রিটন মোস্তাফা
            জয়পুরহাট,বাংলাদেশ

● কংক্রিট কষ্ট ●

কপালের অনিয়ন্ত্রিত ভাঁজে ভাঁজে
স্পষ্ট খোদাই করা রঙহীন কিছু কষ্ট ।
নীরবতার ফ্যাকাশে ঠোঁটে সিগারেট
ধোঁয়া ছেড়ে দীর্ঘশ্বাস আড়াল করে।

কেউ একজন কাঁদা লেপ্টে গেছে হৃদপিণ্ডে
নিশ্বাসে বেড়িয়ে আসে বিভৎস অতীত কাল।
রাত এবং দিনের মিক্সিং চা এর কাপে, চুমুকে
অগ্রসর হয় বিষাদের বেঁচে থাকার পরিকল্পনা।

এসবের ফাঁকে ফাঁকে বেঁচে আছি আজও আমি
ঝড় বৃষ্টির ভাঙাচোরার দুর্দান্ত সব তান্ডবের মাঝে।
যেদিন তোমার আমার গল্প থেমে গেলো, বিভাজনে
সেদিন থেকেই ধ্বংস স্তুপেই আমার বসত নিয়েছি গড়ে।

আমাকে বেঁচে থাকতে হয়,মৃত্যু হয় না বলে।
এই টুকরো স্মৃতিতে, কষ্টে এবং অনিচ্ছাতে।

     - রিটন মোস্তাফা

☞ আতংকিত আই ডি নাম

image

ব্যপারটা আর না বলে পারছি না,আমার ফ্রেন্ডলিস্ট মাত্র অর্ধভাগ পুর্ণ হয়েছে৷একটু সচেতনতার সাথে লিস্টটা পুরণ করার ইচ্ছা আছে৷আমি নিজে তেমন কোন মুল্যায়ন যোগ্য কেউ নই বলেই, লিস্টে আমার বিচারে গুরুত্বপুরণ,প্রতিভাবান পোস্ট রাইটার এবং রুচিসীলতার ছাপ আছে এমন সব আইডি গুলোকে যত্নের সাথে বেছে নেওয়ার আন্তরিক চেষ্টা করছি৷ এই ফ্রেন্ডলিস্টা পুরুন করতে গিয়ে সব থেকে বেশী লক্ষ করেছি বিভিন্ন আইডির নাম গুলো৷অরজিনাল নামের সাথে “লাইকার” এবং “RJ” শব্দ যুক্ত নামই বেশী৷রুচী এবং মানসিকতার বিচারে এদেরকে কোন ধরনের বলা যায়, তা আপনারাই ভালো বলতে পারেন৷তবে ফেসবুকের ভাষায় এদেরকে আবাল ছাড়া আর কিছুই আমি মনে করিনা৷এ শব্দ গুলো নিজেৱ আইডি নামেৱ আগা-পাছায় লাগানোর৷যৌতিকতাও আছে বলে আমি মনে করিনা৷ “লাইকার মাসুদ” লাইকার মকসেদ” “লাইকার আবু বক্কর সিদ্দিকী” ইত্যাদি৷
Rj শব্দ, যার পুর্ণ রুপ “রেডিও জকি”৷ লক্ষ করে দেখেছি এরকম শব্দযুক্ত নাম যেমন “rj shahin” rj ropok”rj abal” ইত্যাদী৷আমি হেজিটেশনে পরে যাই আসল rj ভাইদের (Rj salman, Rj moni) খুঁজতে গিয়ে ৷ আমার মনে হয় এরা “ফেসবুক জকি” আর ভালো হয় এদেরকে “ফেসবুক জোকার” বলাই ভালো৷বাঁকিটা আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম৷
এবার আসি আসল যায়গায়৷বহু বহু আইডি অর্থাত উল্লেখ যোগ্য আইডির নাম দেখলাম “রংবাজ” “অমুক এলাকার ডন””ত্রাস””লাইক খোড়” “মাফিয়া” ইত্যাদী আতংকিত নাম গুলো৷অনেকেই আইডিতে নামের সাথে এই শব্দ গুলো ব্যবহার করেছেন৷ মানসিক দিকটা আপনারা চিন্তা করেছেন একবার?কোন মানসিকতা নিয়ে এড়া বড় হচ্ছে চিন্তা করুণ একবার!এদের ভবিষ্যত মানুষ হিসাবে কি ভাবে তৈরী হচ্ছে?অবশ্যয় অবশ্যয় ভেবে দেখা উচিৎ৷
দু একজন এরকম বন্ধু হয়তো আমার লিষ্টেও আছে৷আমি তাদেরকে সব শেষে বলতে চাই কষ্ট নিয়েন না ভাই ৷রাগ করেননা৷নেগেটিভ ভাবে না নিয়ে পজেটেভলী একবার চিন্তা করেন৷আর কমেন্ট বক্সে গালাগালী না করে আপনার পক্ষে কোন যুক্তি থাকলে অবশ্যই তা মতামত আকারে জানাবার আকুল আবেদন রইলো৷
___________________⊙ রিটন ⊙

★আফসোস ★

✔ এভাবেই একদিন চলে যেতে যেতে আর ফেড়া হবেনা৷সুযোগ মিলবেনা পিছনের ত্রুটি গুলো

image

সুখে পরিনত করার৷কষ্টে কষ্টে কালো দেহটা নিয়ে নিথর হয়ে পরে থাকতে হবে সাহায্যকারীর আশায়৷কখন তারা মাটিচাপা দিয়ে সমাপ্তী ঘটাবে যা কিছু আমি ও আমার…….

“আমি কি?”

image

প্রতিদিন অনেক গুলো মিথ্যে কথা বলতে হচ্ছে,অনেক মানুষকে কষ্ট দিতে হচ্ছে,প্রতারনার ফাঁদ পাততে হচ্ছে অনেক যায়গায়,কেরে নিতে হচ্ছে অন্যের ধিক্কার,বেচে থাকার যুদ্ধ করছি৷তার পরেও আমার পরিচয় আমি মানুষ৷